Earth 2.0 আমাদের ভবিষ্যতের পৃথিবী

Earth 2.0 আমাদের ভবিষ্যতের পৃথিবী।

Exoplanet


পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার কারণ আমাদের সূর্য। এটি আমাদের সমুদ্রকে গরম রাখে। এর ফলে পৃথিবীতে সঠিক আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়। যা প্রত্যেকটি জীবের বেঁচে থাকার জন্য উপযোগী।

আমাদের পৃথিবীতে গাছপালা এবং পশুপাখির অগণিত প্রজাতি রয়েছে। যাদের বায়ুমন্ডলের একটি মোটা চাদর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচিয়ে রাখে। আমাদের জন্য পৃথিবী উপযোগী হলেও আজ আমরা এটিকে অনেক দূষিত করে ফেলছি। যদি এমনই চলতে থাকে তাহলে হয়তো এ পৃথিবী বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাবে। তখন আমাদের বসবাসের জন্য নতুন একটি গ্রহের প্রয়োজন হবে।

$ads={1}

প্রতিদিনের বায়ু দূষণ, বাড়তি জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব এবং জীবন ধ্বংসকারী ভাইরাস কখনো না কখনো আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীকে বসবাসের অনুপযুক্ত করে ফেলবে। তখন মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে নতুন একটি ঠিকানা। এটি তখনই সম্ভব হবে যখন আমরা পৃথিবীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি গ্রহ খুঁজে পাবে।

এখন প্রশ্ন হল এই ধরনের গ্রহ কি রয়েছে? পৃথিবীর বাইরে কি জীব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব? হ্যাঁ পৃথিবীর বাইরে জীব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু এটি তখনই সম্ভব যখন গ্রহটির জলবায়ু আমাদের পৃথিবীর মত হবে। আমাদের সৌরজগতের বাইরে যতগুলি গ্রহ রয়েছে তাদের এক্সোপ্ল্যানেট (Exoplanet) বলা হয়। এই সবগুলো এক্সোপ্ল্যানেট নিজেদের স্টারকে পরিক্রমা করে, যেমনটি আমাদের পৃথিবী সূর্যকে করে থাকে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন ভবিষ্যতে এসকল গ্রহ আমাদের বসবাসের জন্য উপযুক্ত হতে পারে। কিন্তু এটি তখনই সম্ভব যখন সেই গ্রহটি তার তারার সঠিক দূরত্বে অবস্থান করবে।

অন্য আরেকটি গ্রহে জীবন যাপন করা তখনই সম্ভব হবে যখন সে গ্রহের পানি তরল অবস্থায় থাকবে। আর পানি তরল তখনই থাকবে যখন গ্রহটি তার তারার Habitable Zone এ থাকবে। Habitable Zone হচ্ছে একটি তারার সেই অঞ্চল যে অঞ্চলের গ্রহগুলো তার তারার বেশি দূরে না আবার বেশি কাছেও না। যেমন আমাদের পৃথিবী সূর্যের Habitable Zone এর মধ্যে অবস্থিত।

$ads={2}

যদি কোন গ্রহ তার তারার বেশি কাছে থাকে তাহলে সেখানে অবস্থিত পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে। আর যদি কোন গ্রহ তার তারা থেকে বেশি দূরে অবস্থান করে তাহলে সেই গ্রহের পানি শীতল হয়ে বরফে রূপান্তরিত হবে। আর এক্ষেত্রে সে গ্রহে বসবাস করা অসম্ভব। এজন্য গ্রহে জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য সেটির Habitable Zone এ থাকা প্রয়োজন। যাতে গ্রহটির পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা যখন এমন গ্রহ খোঁজা শুরু করে তখন তারা এমন অনেক গ্রহ পেয়েছিল, যেগুলি তার তারার Habitable Zone এ ছিল। এখন প্রশ্ন হলো আমরা কি কখনো সেখানে পৌঁছাতে পারবো। কারণ এসকল গ্রহ আমাদের পৃথিবী থেকে কয়েক হাজার আলোকবর্ষ দূরে। আর আমরা যদি সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হই তাহলে কি আমরা সেখানে জীবন ধারণ করতে পারব। কারণ আমাদের জীবন ধারণের জন্য গ্রহটির বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর মতো হওয়া আবশ্যক।

বিজ্ঞানীরা এমন একটি গ্রহ খুঁজে পেয়েছে যেটির বায়ুমণ্ডল অনেকটা আমাদের পৃথিবীর মতো এবং গ্রহটি তার তারার Habitable Zone এ অবস্থিত। পৃথিবীর সাথে অনেকটা মিল থাকার কারণে বিজ্ঞানীরা একে পৃথিবীর কাজিনও বলে থাকে। গ্রহটি হল নাম Kepler 452B। গ্রহটি পৃথিবী থেকে চৌদ্দশ আলোকবর্ষ দূরে। বিজ্ঞানীরা গ্রহটির সন্ধান পায় ২০১৫ সালের জুলাই মাসে। Kepler 452B গ্রহটি পৃথিবী থেকে ৬০ শতাংশ বড়। এখন পর্যন্ত যতগুলো গ্রহ তার তারার Habitable Zone এ পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে Kepler 452B সবথেকে ছোট গ্রহ।

পানি পরে জীবনধারণের জন্য সবথেকে প্রয়োজনীয় উপাদান টি হল তাপ। Kepler 452B এর তারা অনেকটা আমাদের সূর্যের মতো তাই সেখানে আমরা তেমনি তাপ অনুভব করব যেমনটা আমরা পৃথিবীতে করছি। Kepler 452 আমাদের সূর্যের মতোই G-TypeStar। বিজ্ঞানীরা তারার তাপমাত্রা এবং আকারের উপর ভিত্তি করে একে তিন ভাগে ভাগ করেছেন।

• K-Star : যেসকল তারা আমাদের সূর্য থেকে অনেক ছোট এবং শীতল সেগুলোকে K-Star তারা বলে।

• M-Star : যেসকল তারা আমাদের সূর্য থেকে হালকা ছোট এবং শীতল সেগুলোকে M-Star তারা বলে।

• G-Star : যেসকল তারা আমাদের সূর্যের মতো তাদের G-Star তারা বলে হয়।

আমাদের পৃথিবী সূর্যকে যে দূরত্ব থেকে প্রদক্ষিণ করে, Kepler 452B ও প্রায় সেই দূরত্ব থেকে তার তারাকে প্রদক্ষিণ করে। Kepler 452B এর কক্ষপথ পৃথিবী থেকে কিছুটা বড়, এর তারাকে একবার প্রদক্ষিণ করতে এর সময় লাগে ৩৮৫দিন অর্থাৎ পৃথিবী থেকে মাত্র ২০দিনে বেশি সময় লাগে। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব যতটুকু, তারচেয়ে Kepler 452 থেকে Kepler 452B মধ্যকার দূরত্ব মাত্র ৫ শতাংশ বেশি।

আমরা এতদিন ধরে বিশ্বাস করে আসছিলাম যে জীবনের অস্তিত্ব শুধু পৃথিবীতে রয়েছে এবং আমাদের সূর্য সবচেয়ে প্রাচীন। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা ছিল আমাদের। আমাদের এস্টার সিস্টেমের মতো বিশ্বজগতে অনেক সিস্টেম রয়েছে। যাদের নিজেদের তারা এবং বহু গ্রহ রয়েছে। Kepler 452B ও তাদের মধ্যে একটি। Kepler 452 তারাটির বয়স ৬ বিলিয়ন বছর অর্থাৎ এই তারাটির বয়স সূর্য থেকেও ১.৫ বিলিয়ন বছর পুরনো। এর ব্যাস সূর্য থেকে ১০ শতাংশ বেশি এবং উজ্জলতা ২০ শতাংশ বেশি। এই তারাটির তাপমাত্রা সূর্যের মতোই। আমাদের সূর্যের তাপমাত্রা ৫৭৭৮ কেলভিন আর Kepler 452 এর তাপমাত্রা ৫৭৫৭ কেলভিন। এসকল মিল থাকার কারণে বিজ্ঞানীরা একে Earth 2.0 বলে থাকে।

একটি গ্রহে বসবাস করার জন্য সেখানে মাটি থাকা খুবই প্রয়োজন। বিজ্ঞানীদের পাওয়া তথ্যমতে এ গ্রহের জমি পাথর দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা হয়। এই গ্রহটিকে সুপার আর্থ ও বলা হয়ে থাকে। যদি আমরা কখনো এই গ্রহে যাই আমরা নিজেদের ভর দ্বিগুণ অনুভব করব। অর্থাৎ আপনার মনে হবে আপনি নিজেই নিজেকে কাঁধে নিয়ে ঘুরছেন।

Kepler 452B আমাদের পৃথিবী থেকে অধিক পুরনো এবং এটি নিজের তারা Kepler 452 কে ৬ বিলিয়ন বছর ধরে প্রদক্ষিণ করছে। পৃথিবী ও Kepler 452B এর মধ্যে এতগুলো সাদৃশ্য থাকার কারণে এতে জীবের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব। কিন্তু এর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমরা কি ভবিষ্যতে এই গ্রহে বসবাস করতে পারব এর উত্তর খুঁজতে আমাদের বিজ্ঞানীরা প্রতিদিনই এর উপর গবেষণা চালাচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের পাওয়া তথ্যমতে পৃথিবীর পরে মানুষের বসবাসের জন্য সবচেয়ে ভালো স্থান হবে এটি। কিন্তু এ গ্রহে জীবনধারণের জন্য আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে এই গ্রহে পৌঁছানো। এ গ্রহটি পৃথিবী থেকে চৌদ্দশ আলোকবর্ষ দূরে। অর্থাৎ আমরা যদি আলোর বেগেও এই গ্রহের দিকে যাই তবে আমাদের পৌঁছাতে চৌদ্দশ বছর লাগবে। যদি আমরা Voyager 1 এর গতিতে যাত্রা শুরু করি যার গতি ৬১,০০০ কিলোমিটার প্রতিঘন্টা তাহলেও আমাদের পৌঁছাতে লাগবে ২কোটি ৬০লক্ষ বছর। এই গতিতে আমাদের কখনো এই গ্রহে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

ভবিষ্যতে যদি আমরা এমন কোন মেশিন তৈরি করতে পারি যার গতি আলোর গতির সমান হবে তাহলেও এই গ্রহে আমাদের পৌঁছাতে ১৪০০ বছর লাগবে। এভাবে কখনোই আমাদের এই গ্রহে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখনকার জন্য এটিই ভালো যে আমরা আমাদের পৃথিবীকে কম দূষিত করি এবং নিজেদের অস্তিত্ব ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করি।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন