ইউজিন মেরলি শুমেকার - পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি যাকে চাঁদে কবর দেয়া হয়েছিল

ইউজিন মেরলি শুমেকার - পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি যাকে চাঁদে কবর দেয়া হয়েছিল

Eugene Merle Shoemaker


মানুষ সৌরজগতের বহুপথ পাড়ি দিয়েছে। হাজারো নভোচারীকে সৌরজগতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু চাঁদে যাওয়ার সৌভাগ্য অল্পকিছু নভোচারীর হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র নাসাই অ্যাপোলো মিশন এর মাধ্যমে চাঁদে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। ২০ জুলাই ১৯৬৯ সালে নাসার অ্যাপোলো ইলেভেন মিশন এর মাধ্যমে নীল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদে পা রাখেন। নাসার ৭টি অ্যাপোলো মিশনের মধ্যে ১২ জন নভোচারী চাঁদে যাওয়ার সুযোগ পায়। তারা প্রত্যেকেই সুস্থভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। কিন্তু শুধু ইউজিন মেরলি শুমেকার কে চাঁদে কবর দেয়া হয়েছিল এবং তিনিই পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি যাকে চাঁদে কবর দেয়া হয়েছিল।

$ads={1}

শুমেকার লেভি-৯ নামক ধূমকেতু সাথে ১৯৯৯ সালে আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ জুপিটার এর সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষ বিশ্বের মানুষ সরাসরি টিভিতে দেখতে পায়। এ ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেন ইউজিন মেরলি শুমেকার। তাই ধূমকেতুটির নাম তার নামে রাখা হয়।

ইউজিন মেরলি শুমেকার একজন আমেরিকান জ্যোতিষবিদ ছিলেন। তিনি ২৮ এপ্রিল ১৯২৮ সালে আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোট থেকেই সৌরজগতের বিষয় নিয়ে তার আগ্রহ ছিল। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ১৯৬০ সালে নাসার অ্যাপোলো মিশনে যোগ দেন। এই মিশনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি তার দলের সাহায্যে প্রথম চাঁদের ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র তৈরি করেন। তার কাজের দক্ষতা দেখে নাসা তাকে নভোচারীদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেন। যেটি তিনি দক্ষতার সাথে পূর্ণ করেন।

ইউজিন চেয়ে ছিলেন নিজের চোখে চাঁদ কে দেখতে। তাই তিনি সবসময় চাঁদে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতেন। যেহেতু চাঁদের ভূতাত্ত্বিক বিষয়ে তিনি দক্ষ ছিলেন তাই তাকে পৃথিবীতে থেকেই কাজ করতে হতো। নাসায় যুক্ত থাকার পরও তিনি ইমপ্যাক্ট ক্সাটার এর খোঁজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করতেন। ১৯৯৭ সালে এমনই একটি খোঁজের জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়াতে জান। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান।

$ads={2}

চাঁদের প্রতি আগ্রহ এবং অ্যাপোলো মিশনে তার অবদানের কথা মাথায় রেখে তাকে চাঁদে কবর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু চাঁদে একটি মৃত মানুষকে পাঠানো খুবই কঠিন ছিল। তাই তাকে পৃথিবীতে দাহ করা হয়। দাহনের পর তার ছাই গুলো চাঁদে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এর দায়িত্ব দেয়া হয় সেলেস্টীস নামের একটি কোম্পানিকে। তারা একটি পলিকার্বনেট ক্যাপসুল তৈরি করে এবং সেই ক্যাপসুলে ইউজিন এর ছাই গুলো রেখে সেটি চাঁদে পাঠানো হয়। এই ক্যাপসুলটি ৩১ জুলাই ১৯৯৯ সালে চাঁদে পৌঁছায়।

ক্যাপসুলে এর বাহিরে ইউজিন এর ছবি,নাম,জন্মতারিখ,মৃত্যুর দিন এবং সময় লিখে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি তার জীবনে কখনো চাঁদে যেতে পারেনি তাকে এইভাবে চাঁদে কবর দেয়া হয়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন