ভালোবাসার প্রতীক খ্যাত তাজমহল সম্পর্কে ১০ টি অজানা তথ্য

ভালোবাসার প্রতীক খ্যাত তাজমহল সম্পর্কে ১০ টি অজানা তথ্য

Taj Mahal


পৃথিবীতে হাজারো বিস্ময়কর স্থাপত্য রয়েছে, কিন্তু এদের মধ্যে তাজমহল এক এবং অদ্বিতীয়। কারণ এটি তৈরি হয়েছিল এক সম্রাটের ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে। তাজমহল সম্পর্কে ১০ টি অজানা তথ্য বলবো যা হয়তো আপনি কখনো শুনেননি।

$ads={1}

১. পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক তাজমহল দেখতে আসে, কিন্তু তারা অনেকেই জানেনা যে তারা তাজমহলের পিছনের অংশটা দেখছে। তাজমহলে প্রবেশ করার শাহী দরজাটি নদীর দিকে রয়েছে। মুঘল আমলে তাজমহলে যাওয়ার জন্য যমুনা নদী ছিল প্রধান রাস্তা। শাহজাহান নৌকায় করে তাজমহলে আসতেন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ধীরে ধীরে নদীটি ভরাট হয়ে যায়।

২. বলা হয় শাহজাহান তাজমহল নির্মাতাদের হাত কেটে দিয়েছিল। তবে এটি সম্পূর্ণ গুজব ছিল। কারণ এর কোনো প্রমাণ ইতিহাসে পাওয়া যায়নি। কিছু ইতিহাসবিদদের ধারণা শাহজাহান তাজমহল নির্মাতাদের সারা জীবনের বেতন দিয়ে একটি চুক্তিপত্র লিখে নিয়েছিলেন যে তারা এমন মহল আর কখনো তৈরি করবে না।

৩. তাজমহলের সাথে থাকা চারটি মিনার দেখলে মনে হয় সোজাসুজি ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আপনি একটু লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন এগুলো কিছুটা বাইরের দিকে ঝুকে আছে। এগুলোকে এভাবেই তৈরি করা হয়েছিল। যাতে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূমিকম্প হলে এগুলো বাইরের দিকে পড়ে এবং তাজমহলের প্রধান অংশের কোন ধরনের ক্ষতি না হয়।

$ads={2}

৪. শাহজাহানের শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধশালী ছিল। তার শাসনামলকে মুঘল সাম্রাজ্যের বসন্ত বলা হয়। শাহজাহানের শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্য তেমন একটা যুদ্ধে জড়ায়নি। কিন্তু তার তৈরি স্থাপনাগুলো বিশ্বকে আজও তাক লাগিয়ে দেন।

৫. তাজমহল অঙ্কিত শিল্পকর্ম বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। এর জন্য শ্বেত পাথর রাজস্থানের মাকরানা থেকে নিয়ে আসা হয়। চুনাপাথর চীন থেকে আনা হয়। তাজমহল তৈরীর জন্য এভাবে আরো ২৮ টি রত্ন পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা হয়। এসকল বহুমূল্যবান রত্ন ভারতে আনার জন্য প্রায় ১,০০০ হাতি ব্যবহার করা হয়েছিল।

৬. তাজমহল ১৬৩১ সালে বানানো শুরু হয় এবং ২২ বছর পর ১৬৫৩ সালে এর কাজ শেষ হয়। তাজমহল তৈরি করতে ২০ হাজার শ্রমিক দিন রাত কাজ করেছেন।

৭. ইংরেজ শাসনামলে সৈন্য বিদ্রোহের সময় ইংরেজরা তাজমহলের বিভিন্নভাবে ক্ষতি করে। তারা তাজমহলে খচিত মূল্যবান রত্ন তুলে নিয়ে যায়।

৮. তাজমহলের নকশা কে তৈরি করেছে তা সঠিকভাবে কখনো জানা যায়নি। মনে করা হয় বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৭ জন কারিগর তাজমহলের নকশা তৈরি করার জন্য নিয়ে আসা হয়।

৯. ১৬৫৩ সালে তাজমহল বানাতে খরচ হয়েছিল কোটি টাকা। সেটি হিসেব করলে বর্তমান সময়ে যদি কেউ তাজমহল তৈরি করতে চায় তাহলে তার খরচ করতে হবে ৫,৭০০ কোটি টাকা।

১০. শাহজাহান চেয়েছিল তাজমহলকে সকল সৌন্দর্যের শীর্ষে রাখতে। এরইমধ্যে শাহজাহানের ছেলের আগ্রা দখল করে নেয় এবং শাহজাহানকে বন্দি করে ফেলে। শাহজাহান থেকে যখন তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হয় তখন সে বলেছিল তাকে এমন জায়গায় বন্দি করতে যেখান থেকে এসে তাজমহল দেখতে পাবে। তার সেই ইচ্ছাটা পূরণ করা হয়। বন্দি কারাগার থেকে তিনি সবসময় তাজমহল দেখতেন এবং বন্দী অবস্থাতেই তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর তাকে তাজমহলের ভিতরে মমতাজের পাশে কবর দেয়া হয়।

শাহজাহান জানতেন এ বিশাল সাম্রাজ্য, বিপুল সম্পদ ও সৈন্যবল একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে। তিনি ভেবেছিলেন এমন কিছু তৈরি করে যাবেন যেটি সব সময় থাকবে। তিনি তার মমতাজের জন্য তাজমহল তৈরি করেন। আজ বাদশা নেই, নেই তার বিশাল সাম্রাজ্য আছে শুধু তার তৈরি তাজমহল যা ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে সবসময় মানুষের মনে থাকবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন