টাইম ট্রাভেল কি সত্যিই সম্ভব? Is Time Travel really possible

টাইম ট্রাভেল কি সত্যিই সম্ভব? Is Time Travel Really Possible

Time Travel টাইম ট্রাভেল

টাইম ট্রাভেল কি সত্যিই সম্ভব, আমরা কি সত্যিই আমাদের অতীতে ফিরে যেতে পারবো? পৃথিবীতে অনেক মানুষ টাইম ট্রাভেল করার দাবি করেছে। কেউ অতীতে আবার কেউ ভবিষ্যতে যাওয়ার কথা বলেছেন। আজকে আমরা সেসব ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানব। কিন্তু এর আগে বিজ্ঞান টাইম ট্রাভেল নিয়ে কি বলে তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

$ads={1}

বিজ্ঞানের ধারণা মতে টাইম ট্রাভেল করা সম্ভব। আলবার্ট আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটির মতে আমরা সময়ের আগে কিংবা পরে যেতে পারবো। টাইম ট্রাভেলের বেশিরভাগ মতবাদই আমাদের ভবিষ্যতে যাওয়ার অনুমতি  দেয়। এর কারণ সময় অতীতের দিকে নয়, ভবিষ্যতের দিকে চলমান। অর্থাৎ আমরা শুধু ভবিষ্যতেই টাইম ট্রাভেল করতে পারব। কিন্তু একটি তত্ত্ব মতে অতীতে যাওয়াও সম্ভব। সে তত্ত্বটি হল ওয়ার্মহোল তত্ত্ব।

ওয়ার্মহোল এর মাধ্যমে আমরা অতীতে যাত্রা করতে পারব। কিন্তু এই তত্ত্ব নিয়ে কল্পনা করতেই বিজ্ঞানীরা কিছু চিন্তার মধ্যে পড়ে যায়। এর কারণ হলো বর্তমানের পরিবর্তন। আমরা অতীতে গিয়ে কি আমাদের করা ভুলগুলো শোধরাতে পারব? এই প্রশ্নটিই বিজ্ঞানীদের চিন্তার কারণ, আর প্রশ্নটি আরো দুটি প্রশ্নের জন্ম দেয়।

$ads={2}

প্রথমটি হল কেউ যদি অতীতে গিয়ে তার দাদার বিয়ে হওয়ার আগেই তাকে মেরে ফেলে তাহলে তার বাবা কিংবা তার জন্মই হবে না। আর যার জন্মই হয়নি সে অতীতে কিভাবে গেল। এই প্রশ্নটি অতীতে যাওয়ার তত্ত্বকে সম্পূর্ণ শেষ করে দেয়। দ্বিতীয় প্রশ্নটি অতীতে যাওয়ার তত্ত্বকে আরও জটিল করে তোলে। ধরুন আপনার বয়স এখন ১৫ বছর। আপনি একদিন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে আপনাকে একটা বই দিয়ে যায় এবং বলে এর মধ্যে টাইম মেশিন তৈরি করার ফর্মুলা রয়েছে। আপনি বইটি নিয়ে ঘরে এসেছেন এবং সেটি বুঝার চেষ্টা করছেন। বইটির সম্পূর্ণ বুঝতে এবং টাইম মেশিন তৈরি করতে আপনার ১০ বছর সময় লাগে। মেশিনটি তৈরি করার পর এখন সময় টাইম ট্রাভেল করার। আপনি সেই বইটি নিয়ে মেশিনে করে আপনার পছন্দের বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে দেখা করতে যান।

আপনি আলবার্ট আইনস্টাইন কে বইটি এবং মিশন সম্পর্কে সব খুলে বলেন। আলবার্ট আইনস্টাইন আপনার তথ্যগুলো পেয়ে অনেক খুশি হন। আইনস্টাইন আপনার থেকে বইটি কিছু সময়ের জন্য ধার চায় এবং আপনি তাকে বইটি দিয়ে আবার নিজের সময়ে ফিরে যান। বইটি নেয়ার সময় আইনস্টাইন আপনাকে বলেছিল সে একটি টাইম ট্রাভেল মেশিন বানিয়ে আপনার সময়ে গিয়ে আপনাকে বইটি ফেরত দিয়ে আসবে। একটা সময়ে আইনস্টাইন সেই টাইম মেশিনটি বানাতে সক্ষম হয়। আইনস্টাইন আপনার বইটি ফেরত দেয়ার জন্য আপনার সময়ে আসে যখন আপনার বয়স ১৫ বছর ছিল। তিনি আপনাকে বইটি দেয় এবং বলে এর মধ্যে টাইম মেশিন তৈরি করার ফর্মুলা রয়েছে, এটি বলে আইনস্টাইন চলে যায়। আপনি ঘরে আসেন এবং বইটি বুঝার চেষ্টা করেন। বইটির সম্পূর্ণ বুঝতে এবং টাইম মেশিন তৈরি করতে আপনার ১০ বছর সময় লাগে। এতক্ষনে একটা জিনিস হয়তো বুঝে গেছেন আপনাকে ১৫ বছর বয়সে যে ব্যক্তি বইটি দিয়েছিল সে আইনস্টাইন ছিল।

এখন প্রশ্ন হলো বইটিকে সর্বপ্রথম কে কাকে দিয়েছিল। আপনি বইটি সর্বপ্রথম আইনস্টাইনকে দিয়েছিলেন নাকি আইনস্টাইন আপনাকে সর্বপ্রথম বইটি দিয়েছিল এবং সর্বপ্রথম টাইম মেশিন কে তৈরি করেন আপনি নাকি আইনস্টাইন। অর্থাৎ এ টাইম লুপটি চলতেই থাকবে। যদি আমরা কোন ভাবে অতীতে যেতে পারি তাহলে আমরা অন্তহীন একটি লুপের মধ্যে ফেঁসে যাবো।

বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে ওয়ার্মহোল এর মাধ্যমে অতীতে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু অতীতে গিয়ে আমরা কিছু পরিবর্তন করতে পারব না। সৌরজগতে প্রতিনিয়ত ছোট ছোট ওয়ার্মহোল তৈরি হয় এবং মুহূর্তেই উধাও হয়ে যায়। ওয়ার্মহোল গুলোর আকার এতটাই ছোট যে আমরা কখনো এরমধ্যে প্রবেশ করতে পারব না। কিন্তু সৌরজগতের গ্লিচ এর কারণে আমরা মাঝে মাঝে সময়ে স্লিপ করে  টাইম ট্রাভেল করে ফেলি। এই গ্লিচের কারণেই আমরা মাঝে মাঝে ডেজা-ভুর মত ঘটনা অনুভব করি।

আপনি কোন জায়গায় জীবনের প্রথম গিয়েছেন কিন্তু আপনার মনে হচ্ছে আপনি আগেও এখানে এসেছেন এই অনুভূতিকে ডেজা-ভু বলা হয়। এটি সৌরজগতের গ্লিচ কারনে হয়। আপনি কিছু সময়ের জন্য টাইম ট্রাভেল করে অতীতে কিংবা ভবিষ্যতে চলে গেলে একে টাইম স্লিপ বলে। পৃথিবীতে অনেক মানুষ টাইম স্লিপ এর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হল সুইডেনের হাকান নর্ডকভিস্ট। তিনি টাইম ট্রাভেল করে এসেছেন বলে দাবি করেন।

২০০৬ সালের ২৩শে আগস্ট কাজ শেষে নর্ডকভিস্ট যখন ঘরে পৌঁছে তিনি দেখতে পান তার রান্নাঘরে পানি লিক হচ্ছে। তিনি লিকেজ বন্ধ করার জন্য তার টুলবক্স নেন এবং সিংকের কেবিনেট এর ভেতর ঢুকে পরে। কেবিনেট এর ভিতরে তিনি একটি উজ্জ্বল আলো দেখতে পায়। তিনি সেই আলোর দিকে এগোতে থাকে। একটা সময় তিনি সেই আলোর থেকে বেরিয়ে পড়েন এবং দেখতে পান তিনি তার সেই রান্নাঘরে চলে এসেছে। তিনি সেই রান্নাঘরে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ কে দেখতে পান। তিনি সেই লোকটিকে দেখে কিছুটা অবাক হন কারণ সে ৭০ বছরের বৃদ্ধার সাথে তার চেহারা হুবহু মিল খুঁজে পান তিনি। যখন তারা দুইজন এ বিষয়ে কথা বলে তখন তিনি জানতে পারেন তিনি ২০৪২ সালে চলে এসেছেন। অর্থাৎ তিনি ২০০৬ থেকে ২০৪২ সালে চলেছে এসেছেন এবং তিনি যার সাথে কথা বলছেন তিনি তারই ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। নর্ডকভিস্ট তার মোবাইল বের করেন এবং তার ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবির সাথে একটা ভিডিও রেকর্ড করেন। অনেকে মনে করেন নর্ডকভিস্ট যে ভিডিওটি দেখিয়েছেন সিটি এডিট করা ভিডিও। এ বিষয়ে নর্ডকভিস্ট বলেন তার কিছু আসে যায় না মানুষ তার কথায় বিশ্বাস করুক বা না করুক তিনি টাইম ট্রাভেল করতে পেরেছেন এতেই তিনি খুশি।

সৌরজগতে ওয়ার্মহোল তৈরি হয় যা দুটি সময়কে একত্রিত করে। ওয়ার্মহোল এর মাধ্যমে অতীত এবং ভবিষ্যৎ দুটিতেই টাইম ট্রাভেল করা সম্ভব। বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে সৌরজগতের গ্লিচের কারণে ওয়ার্মহোল তৈরী হয় এবং নর্ডকভিস্ট সেই ওয়ার্মহোলের মাধ্যমে টাইম ট্রাভেল করেন। আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা কখনো ওয়ার্মহোল শনাক্ত করতে পারেনি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করে ওয়ার্মহোল সত্যিই রয়েছে। তাই বিজ্ঞানীরা  নর্ডকভিস্টের ঘটনাটি মেনে নেয় না আবার অস্বীকারও করতে পারে না। যার কারণে ঘটনাটি রহস্যই রয়ে গেল।

ক্যাথরিন ফ্লেচার একটি বই লিখেন যেটি ২০১৫ সালের ১৩ই জানুয়ারী প্রকাশ করা হয়। যার নাম ছিল "টাইম স্লিপস রিয়েল স্টোরিস অফ টাইম ট্রাভেল" এ বইটিতে টাইম ট্রাভেলের একটি ঘটনা সম্পর্কে বলা হয়। ঘটনাটি এমন ছিল, একটি মেয়ে তার ফার্ম হাউসে চেয়ারের উপর বসে বই পড়ছিল। তার হাসবেন্ড বাজারে গিয়েছিল কেনাকাটা করতে। কিছুক্ষণ পর মেয়েটি দেখতে পায় তার হাজবেন্ড গাড়ি নিয়ে বাজার থেকে ফিরে আসছে। সে গিয়ে গেট খুলে দেয় এবং গাড়িটি ভিতরে নিয়ে আসে। এরপর সে আগের জায়গায় গিয়ে আবার বই পড়া শুরু করে। সে যখন বই থেকে চোখ সরিয়ে সামনের দিকে দেখে তখন সে দেখতে পায় তার হাজবেন্ড এবং গাড়ি কোনটিই ফার্ম হাউজে নেই। ফার্ম হাউসের গেটেও তালা লাগানো।

মেয়েটি মনে করে তার হাজবেন্ডের জরুরী কোন কাজ ছিল তাই হয়তো তাকে না বলে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। এক ঘন্টা পর মেয়েটি লক্ষ্য করলো তার হাজবেন্ড গাড়ি নিয়ে ঠিক সেইভাবে আসছিল যেভাবে এর আগের বার এসেছিল। মেয়েটি ঠিক সেই আগের বারের মত গেট খুলে দেয় এবং তার হাজবেন্ড গাড়ি নিয়ে ভেতরে আসে। ঘটনাটি দেখে মেয়েটি আশ্চর্য হয়ে যায়। কারণ এই দৃশ্যটি ঠিক তেমনিই ছিল যেমনটি সে একঘন্টা আগে দেখেছিল। মেয়েটি তার হাজবেন্ডের কাছে যায় এবং জিজ্ঞাসা করে এক ঘন্টা আগে হঠাৎ করে কোথায় চলে গিয়েছিল। তার হাজবেন্ড তাকে বলে সে এক ঘন্টা আগে আসেনি মাত্র এসেছে। বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাটিকে একটি টাইম স্লিপ বলে ধারণা করেন।

লিভারপুল টাইম স্লিপ। সময়টা ১৯৯৬ সালের জুলাই মাসে যখন ফ্রাঙ্ক লিভারপুল এবং তার স্ত্রী কেরেল লন্ডনের একটি জনবহুল এলাকায় কেনাকাটার জন্য যায়। ফ্রাঙ্ক একটি বইয়ের দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন কিন্তু কিছুদূর গিয়ে সে যখন একটি ছোট গলি দিয়ে বের হলো সে আশেপাশের পরিবর্তন লক্ষ্য করলো। জনবহুল রাস্তাটি যেখানে সব সময় লোকসমাগম থাকে তা খালি পড়ে আছে। একটা সময় পুরনো দিনের হর্ন বাজানো একটি গাড়ি তার পাশ কাটিয়ে যেতে দেখতে পায়। যেটি দেখতে ১৯৫০ সালের গাড়িগুলো মত ছিল।

ফ্রাঙ্ক রাস্তা পার হয়ে দোকানের দিকে যায় কিন্তু সে দেখতে পায় সেই জায়গায় থাকা বইয়ের দোকান টি নেই। সে জায়গায় মহিলাদের ব্যাগ এবং জুতার দোকান। ফ্রাঙ্ক যখন আশেপাশে দেখে তখন দেখতে সেখানের মানুষের পোশাক দেখতে ১৯৪০ সালের পোশাকের মতো। হঠাৎ সে মর্ডান ড্রেস পরা একটি মেয়েকে দেখতে পায় এবং তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করে সেকি আশেপাশের কিছু পরিবর্তন লক্ষ করতে পারছে। মেয়েটি বলল হ্যাঁ, সে এসেছিল ব্যাগ কিনতে কিন্তু এখানে তো সব বই। এটি শুনেই ফ্রাঙ্ক চিন্তায় পড়ে যায় ঠিক তখনই তার স্ত্রী তার কাছে আসে। ফ্রাঙ্ক তার স্ত্রীকেসম্পূর্ণ ঘটনাটি খুলে বলেন।

ফ্রাঙ্ক বাড়িতে ফিরে এসে সে জায়গাটির সকল তথ্য বের করা শুরু করে। সে জানতে পারল ১৯৫০ সালের দিকে সে জায়গায় একটি ব্যাগের দোকান ছিল। এটি জানতে পেরে ফ্রাঙ্কের কিছুটা আশ্চর্য বোধ হয়। তার এই ঘটনাটিকে বিজ্ঞানীরা  একটি টাইম স্লিপ বলে মনে করেন।

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের টাইম ট্রাভেল করার কথা বলেছেন। কিন্তু তাদের কথায় কতটা সত্যতা রয়েছে তা কেউই জানেনা, তাদের ঘটনাগুলো রহস্যই রয়ে যায়। আপনাদের কি মনে হয় টাইম ট্রাভেল করা কি সত্যিই সম্ভব?

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন